বিশ্ববাজারে পাম অয়েলের দাম ধারাবাহিকভাবে কমছে। তবে দেশের বাজারে এখন পর্যন্ত তার কোনো প্রভাব পড়েনি। পাইকারি ও খুচরায় এখনো আগের দামেই ভোজ্যতেলটি বেচাকেনা হচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিল মালিক ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানগুলোয় তদারকির অভাবে পাম অয়েলের দাম কমছে না।
দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) পাম অয়েল লেনদেন হচ্ছে ৫ হাজার ৭১০ থেকে ৫ হাজার ৭২০ টাকায়। মিলগেট থেকে সংগ্রহ করে এসব পাম অয়েল খুচরা বাজারে সরবরাহ করতে মণপ্রতি আরো অন্তত ১৫০-২০০ টাকা খরচ হয়। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, টানা কয়েক মাস ধরে বৈশ্বিক বুকিং দর নিম্নমুখী হলেও দেশের বাজারে সমন্বয় না করায় পাইকারি ও খুচরায় দাম কমেনি।
ব্যবসায়ীরা জানান, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় কয়েক মাস আগেও পাম অয়েলের বুকিং টনপ্রতি সাড়ে ৪ হাজার রিঙ্গিত ছিল। সর্বশেষ রোববার বুকিং কমে টনপ্রতি ৩ হাজার ৮২৮ রিঙ্গিতে নেমেছে। এ সময় পাম অয়েলের বুকিং দর কমেছে প্রায় ৪০ রিঙ্গিত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিশ্ববাজারে সয়াবিনের দাম স্থিতিশীল থাকলেও পাম অয়েলের বুকিং দর কমেছে। বর্তমান বুকিং দামের হিসাবে দেশে পাম অয়েলের বাজার লিটারপ্রতি ১০-১৫ টাকা কমানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের অভাবে পাইকারিতে দাম কমছে না।’
দেশে বছরে ২০-২২ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ৬৫-৭০ শতাংশই পাম অয়েল। এক-দুই লাখ টন অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদন হলেও বাকি ভোজ্যতেল (পাম অয়েল, সয়াবিন ও অন্যান্য) বিদেশ থেকে আমদানি হয়। বোতলজাত সয়াবিনের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত দাম কার্যকর থাকলেও খোলা ভোজ্যতেলের দাম নির্ভর করে মিল মালিকদের নির্ধারিত দাম ও সরবরাহের ওপর।
পাইকারি ব্যবসায়ীদের মতে, বর্তমানে আমদানি মূল্য উল্লেখযোগ্য কমলেও পাইকারিতে সরবরাহ আদেশ (এসও) বাড়তি দামে বিক্রি করায় দাম এখনো ঊর্ধ্বমুখী। বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি রিপোর্টে দেখা গেছে, মার্চে প্রতি টন অপরিশোধিত পাম অয়েলের দাম ছিল ১ হাজার ৬৪ ডলার। এপ্রিলে তা ৭০ ডলার কমে টনপ্রতি গড় দাম ৯৯৪ ডলারে নেমে আসে। সর্বশেষ ১৮ মে ফিউচার মার্কেটে মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের বুকিং দর ছিল টনপ্রতি ৮৯১ ডলার। অর্থাৎ দুই সপ্তাহের ব্যবধানে তা আরো ১০০ ডলার কমেছে।
এদিকে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গতকাল খাতুনগঞ্জে প্রতি মণ সয়াবিন তেল লেনদেন হচ্ছে ৬ হাজার ১০০ থেকে ৬ হাজার ১৫০ টাকায়। এপ্রিলে গড়ে টনপ্রতি অপরিশোধিত সয়াবিনের বুকিং দর ছিল ১ হাজার ১১৬ ডলার।